1. admin@matlabtimes.com : admin :
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
আগামী নির্বাচন হবে জনগণের ভোটের নির্বাচন, মতলব পৌর ১নং ওয়ার্ড উঠান বৈঠকে তানভীর হুদা কারও পছন্দের প্রার্থীকে জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই – বিএনপি‌ নেতা তানভীর হুদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ চাঁদপুর সদর বাগাদী ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের কমিটি গঠন। মতলব দক্ষিণে বিএনপির আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেশের মানুষ এখন নির্বাচিত সরকার চায় : তানভীর হুদা মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসনের অনিয়মের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ, সকল প্রোগ্রাম বয়কটের সিদ্ধান্ত মতলব উত্তরে বিএনপির উঠান বৈঠক মা-বোনদের শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগই ধানের শীষে ভোট দেন: তানভীর হুদা মতলব উত্তরে বিভিন্ন লক্ষীপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা তানভীর হুদা ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত হলে এমপি হওয়া যাবে না, প্রজ্ঞাপন জারি চাঁদপুরের হোটেলে বিক্রয় প্রতিনিধির রহস্যজনক মৃত্যু ; বিচারের দাবিতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন

বিলুপ্তির পথে একসময়ের জনপ্রিয় রেডিও

জয়া মজুমদারঃ
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ২০৯ বার পড়া হয়েছে
মতলব উত্তরে এক সময়ের মানুষের সাড়া জাগানো রেডিও।

এক সময় দেশ বিদেশের খবর জানা বা চিত্তবিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও। তখন খবর প্রচারের সময় হলে শহর কিংবা গ্রামের লোকজন একটি নির্দিষ্ট স্থানে খবর শোনার জন্য সমবেত হতো। কারণ তখনও সবার ঘরে ঘরে রেডিও’র প্রচলন ছিল না।

মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি, কালির বাজার, ষাটনল, আমিরাবাদ, ছেংগারচর বাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাকিস্তান আমলে যার বাড়িতে রেডিও থাকতো সেই পরিবারকে অনেক ধনী পরিবার বলে মনে করতো সেই সময়ের মানুষেরা। এরপর অবশ্য ধীরে ধীরে রেডিও’র প্রচলন বৃদ্ধি পেয়ে সবার ঘরে ঘরে জায়গা করে নিয়েছিলো। তখন প্রত্যেকেই নিজ বাড়িতে রেডিও শুনতো।

সন্ধ্যা নামলেই শহর কিংবা গ্রামে মানুষেরা দল বেঁধে জড়ো হয়ে খবর শুনতো। এক সময় শুধু সন্ধ্যার খবর শোনার জন্য এক এলাকার লোকজন অন্য এলাকায় ভিড় জমাতো। অনেকেই শখ করে বিয়েতে উপটৌকন হিসেবে বিভিন্ন ব্র‍্যান্ডের রেডিও (বেতার) দিত।

ছেংগারচর পৌরসভার ৯৫ বছর বয়সী মনা দেওয়ান জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার থেকে সরাসরি সম্প্রচারকৃত খবর শোনার একমাত্র মাধ্যমই ছিল রেডিও। যে খবর শুনে লক্ষ লক্ষ বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে যোগদানে উজ্জীবিত হয়েছিল। খবর শুনে সবাই সর্তক হয়ে যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত করতো নিজেকে। তৎকালিন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ সরাসরি রেডিওতে শুনে লাখো বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। যুদ্ধের সময় খবর শোনার জন্য সন্ধ্যা বেলায় সবাই সমবেত হতো। রাতে পাক-হানাদার বাহিনীরা মুক্তি সেনাদের ভয়ে গ্রামে আসতো না, তাই সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তায় খবর শুনতে পারতাম।

চিকিৎসক দিপু সরকার বলেন, ২০১০ সালের দিকে আমাদের ঘরে রেডিও ছিলো, আর সেটি ব্যাটারি দিয়ে চালানো হতো। কোথাও কোথাও দোকানে, চায়ের স্টলে দেখা যেতো। কিন্তু এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। শহরে তো নেই, গ্রাম থেকেও হারিয়ে যেতে বসেছে সেই ঐতিহ্য।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় রেডিও এখন বিলুপ্তির পথে। এখন আর আগের মতো রেডিও’র আওয়াজ কানে আসে না। আগের মতো সমবেত হয়ে কেউ সন্ধ্যার খবর শুনার অপেক্ষায় থাকে না। এখন ঘরে ঘরে টিভি।

রেডিও শ্রোতা গোলাম মোস্তফা জানান, ১৯৯০-২০০০ এর দিকে সবার কাছে রেডিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। সবার ঘরে ঘরে রেডিও ছিলো, তারা রবীন্দ্র-নজরুল সঙ্গীত, সুখী সংসার, দর্পন, ছায়া ছবির গান, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, নাটক শোনায় রেডিও’র প্রচলন ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে সেই জনপ্রিয়তা তরুন প্রজন্ম বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি। সময়ের পরিবর্তনে তারা রেডিও ছেড়ে টেপ রেকর্ডারের (ক্যাসেট) দিকে ঝুঁকে পড়ে। পরবর্তীতে সেটিরও বিলুপ্তি ঘটিয়ে মোবাইল তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এখন মোবাইলে অনেকেই বিভিন্ন বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানমালা শুনে থাকে। তবে এর সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন।

এফ এম রেডিও’র নিয়মিত শ্রোতা জোড়খালী গ্রামের আলমগীর হোসেন, আবুল কালাম, আমির হোসেন জানান, বর্তমানে বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে অতি সহজেই মোবাইল এফএম এর মাধ্যমে আমরা রেডিও অনুষ্ঠানগুলো শুনতে পাই। ফলে নতুন করে আর রেডিও ক্রয় করে খবর শোনার প্রয়োজন পড়ে না।

কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, রেডিও’র গুরুত্ব এখনো কমে যায়নি। যাদের কাছে এটির গুরুত্ব থাকা প্রয়োজন তাদের কাছে এখনো এর যথাযথ গুরুত্ব রয়েছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, এই স্বাধীন বাংলার প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা রেডিও’র মাধ্যমেই প্রচার হওয়ার কথা অনেক মুরব্বিদের কাছে সে সময়ের কথা শুনেছি। তাই আসুন আমরা সবাই আমাদের হারিয়ে যাওয়া এই রেডিওটির গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনি। এই বেতার যন্ত্রটিকে টিকেয়ে রাখাতে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ বলে মনে করেন রেডিও প্রেমী সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পডুন

ঈদ মোবারক, সবাইকে

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: FT It Hosting